শুক্রবার , ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আ.লীগের ঘাঁটিতে ধানের শীষ ও রিক্সার লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি, ভাঙ্গা ,ফরিদপুর :

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে ধানের শীষ ও রিক্সার দ্বিমুখী লড়াইয়ে সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এতথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটার ও প্রার্থীরা সরগরম হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিরামহীন ভাবে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাট-বাজারে আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠছে। ভোটাররা হিসাব নিকাশ মিলাচ্ছেন। কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন করবেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়তে পারবেন সেই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তারা জয়যুক্ত করবেন।

বর্তমানে ভোটের মাঠ বিশ্লেষণ করে ভোটাররা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লার মধ্যে লড়াই হবে।

আরও বড় করে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে ৪ জন প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লা, স্হপতি মুজাহিদ বেগ ও মাওলানা সরোয়ার হোসাইন এই ৪ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে তৃনমুল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ,কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, যে পরিমাণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি তাতে ভোটারদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত হয়ে পড়েছি। তিন থানায় উঠান বৈঠক করেছি, সেখানে ধানের শীষের সমর্থক কানায় কানায় ভরে উঠে, উঠান বৈঠক জনসভা পরিনত হয়। আমি আশা করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়যুক্ত করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, আমি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাকে ১১ দলীয় ঐক্যজোট থেকে মনোনীত করেছে। তবে এ আসন উন্মুক্ত থাকায় জামায়াতের প্রার্থীও রয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আমার দলের আমীর আল্লামা মামুনুল হক ভাঙ্গায় জনসভা করবেন। আশা করি, ওইদিন জোটের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে এবং আমাকে এককভাবে সমর্থন করবেন।

তিনি আরো বলেন, এর আগে আমি ভাঙ্গায় গণমিছিল করেছি, গণমিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। গণমিছিলে যে পরিমাণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। তিন থানায় যে ভাবে মানুষের রিক্সা মার্কার গণজোয়ার দেখছি, প্রতিটি উঠান বৈঠকে কানায় কানায় মানুষের ঢল নামে। মানুষের ভালোবাসা ও উপস্থিতিতে বলে দিচ্ছে এবার তারা রিক্সা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে, ইনশাল্লাহ। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম মুজাহিদ বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভাঙ্গা সদরপুর ও চরভদ্রাসন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে সাহায্য সহযোগিতা করছি, মানুষের সেবা দিচ্ছি। আমি মানুষের ভালোবাসা ও আশ্বাস পেয়েছি। তাতে আমি মনে করি ফুটবল মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয় করবে, ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসাইন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করি। আগে আমি ভাঙ্গা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। পাঁচ বছর মানুষের সেবা করেছি। প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করছি, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয় করবে, ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ ভাঙ্গা সদরপুর ও চরভদ্রাসন আসনে মোট আটজন প্রার্থী এবার ভোট যুদ্ধে মাঠে রয়েছেন।

অন্যরা প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) মুজাহিদ বেগ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী (লাঙ্গল) মুফতী রায়হান জামিল, কমিনিস্ট পার্টির প্রার্থী (কাস্তে) আতাউর রহমান কালু, সতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া) এম এম হোসাইন ও ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) মাওলানা এছাহাক চোকদার।